হাজারো যুবকের আর্তনাদ: বিয়ে কেন এত কঠিন?
হাজারো যুবকের আর্তনাদ: বিয়ে কেন এত কঠিন?
ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক চৌধুরীর বিয়ে নিয়ে একটি লেকচারের কমেন্টবক্সে চোখে পড়ল অসংখ্য যুবকের অসহায়ত্ব, দীর্ঘশ্বাস আর বুকভরা কষ্টের কথা।
কেউ লিখেছেন, ২০ বছর বয়স থেকেই বিয়ের কথা বলছেন, অথচ পরিবার রাজি হচ্ছে না।
কেউ লিখেছেন, বয়স ২১ পেরিয়ে গেছে। বারবার গুনাহে জড়িয়ে নিজেকেই ঘৃণা হচ্ছে, অথচ বাবা-মাকে বোঝাতে পারছেন না।
কেউ লিখেছেন, বয়স ২৮! নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ পরিবার বিয়ের ব্যাপারে এখনো সম্মত নয়।
আবার কেউ পরিবারের কাছে বিয়ের কথা বলার সাহসটুকুও পান না। নীরবে কষ্ট সহ্য করছেন, শুধু দোয়া চেয়েছেন।
একবার ভাবুন তো—এগুলো কি নিছক কিছু কমেন্ট, নাকি আমাদের সমাজের এক গভীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি?
একদিকে আমরা তরুণদের বলছি, “গুনাহ থেকে বাঁচো, চোখের হেফাজত করো, হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকো।”
“এখনো পড়াশোনা শেষ হয়নি!”
“চাকরি পাওনি!”
“সংসার চালাবে কীভাবে?”
“স্ত্রীকে খাওয়াবে কী দিয়ে?”
“মানুষ কী বলবে?”
“আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করো!”
অবশ্যই বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংসার পরিচালনার সামর্থ্য, দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু সামর্থ্য ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক অবস্থা, নৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তব সমস্যাগুলোও কি আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত নয়?
অপেক্ষার এই সময়টুকুতে তাদের ঈমানি লড়াই, নফসের সঙ্গে সংগ্রাম, একাকিত্ব এবং নানা ফিতনার মুখোমুখি হওয়ার বাস্তবতাটা আমরা কতটুকু বুঝি?
বিয়ে শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি দায়িত্বশীল জীবন গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল লোকলজ্জা, অযৌক্তিক সামাজিক প্রত্যাশা, অতিরিক্ত আড়ম্বর কিংবা অনাবশ্যক শর্তের কারণে বিয়েকে কঠিন করে তোলা উচিত নয়।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা এবং সম্ভব হলে সহজ ও কল্যাণকরভাবে বিয়ের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে তরুণদেরও উচিত দায়িত্বশীল হওয়া, হালাল পথে অবিচল থাকা এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
হাজারো যুবকের এই নীরব আর্তনাদ যেন উপহাসের বিষয় না হয়; বরং পরিবার ও সমাজের জন্য আত্মসমালোচনার কারণ হয়।
আসুন, বিয়েকে অযথা কঠিন না করে সহজ করি। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে তরুণেরা হালালভাবে জীবন গড়ার সুযোগ পাবে এবং অভিভাবকেরা তাদের পাশে দাঁড়াবেন সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের যুবসমাজকে ফিতনা থেকে হেফাজত করুন, অভিভাবকদের সঠিক বুঝ দান করুন এবং সবার জন্য কল্যাণকর ও সহজভাবে বিবাহের ব্যবস্থা করে দিন।
আমিন।
— একজন ভুক্তভোগী যুবক
দেশ মাতৃ