সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির ও দোয়া: আরবি উচ্চারণ, অর্থ এবং অবিশ্বাস্য ফজীলত
যিকির বা আল্লাহর স্মরণ মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি। ইসলামে অনেক ধরনের যিকির ও দোয়া রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিশেষ দোয়াকে রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির ও দোয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দৈনন্দিন জীবনে আমল করার সুবিধার্থে এই দোয়াটির আরবি, উচ্চারণ, বাংলা অর্থ এবং এর অসাধারণ ফজীলতগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
মূল দোয়া
عَرَبي:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলা উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থ:
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
এই দোয়ার অসাধারণ ৫টি ফজীলত
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিদিন এই ছোট্ট দোয়াটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পাঠ করার মাধ্যমে বিশাল সওয়াব ও মর্যাদা অর্জন করা সম্ভব।
১. দিনে ১০০ বার পড়ার ফজীলত
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এই দোয়াটি পাঠ করবে, সে নিচের বিশেষ পুরস্কারগুলো লাভ করবে:
- দাসমুক্তির সওয়াব: ১০ জন দাস বা গোলাম মুক্ত করার সমান সওয়াব তার আমলনামায় যোগ হবে।
- সওয়াব ও মর্যাদা: তার আমলনামায় ১০০টি নেকি লেখা হবে।
- গুনাহ মোচন: তার আমলনামা থেকে ১০০টি গুনাহ মুছে ফেলা হবে।
- শয়তান থেকে সুরক্ষা: সেদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের প্ররোচনা ও অনিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
- সর্বোত্তম আমলকারী: সেদিন ওই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আসতে পারবে না, যে এর চেয়ে বেশিবার এই দোয়াটি পড়েছে। [সূত্র: সহীহ বুখারী: ৩২৯৩, সহীহ মুসলিম: ২৬৯১]
২. আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া
পবিত্র হজ ও আরাফার দিনের মর্যাদার কথা কারই অজানা নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আরাফার দিনে স্বয়ং তিনি এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ যে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়াটি পাঠ করতেন, সেটি হলো এই দোয়াটিই।
[সূত্র: তিরমিযী: ৩৫৮৫]
৩. সকালে ১০ বার পড়ার ফজীলত
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১০ বার এই দোয়াটি পাঠ করলে বান্দা সারাদিন মহান আল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে অবস্থান করে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকে।
আমল করার উপযুক্ত সময়
এই বরকতময় যিকিরটি যেকোনো সময় করা গেলেও বিশেষ কিছু সময়ে এর ফজীলত ও কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়। যেমন—
- ঘুম থেকে ওঠার পরপরই
- দৈনিক ফরজ সালাতসমূহের পর
- রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে
দৈনন্দিন রুটিনে এই ছোট্ট আমলটি যুক্ত করে আমরা আমাদের সময়গুলোকে বরকতময় করে তুলতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের নিয়মিত এই সর্বশ্রেষ্ঠ জিকিরটি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
দেশ মাতৃ