হে আল্লাহর বান্দা! এত অহংকার কিসের?
হে আল্লাহর বান্দা!
তুমি কি সেই মানুষটি নও, যে বারবার তাওবা করার প্রতিজ্ঞা করেও নিজের দুর্বলতার কাছে হেরে যায়? আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরও আবার সেই একই গুনাহে জড়িয়ে পড়ে?
তুমি কি সেই মানুষটি নও, যার জীবনের গোপন পাপগুলো প্রকাশ হয়ে গেলে হয়তো অনেক পরিচিত মানুষই তার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে?
তুমি কি সেই মানুষটি নও, যার আমলের ত্রুটিগুলো সামনে এলে নিজের নেক আমল নিয়েই নতুন করে ভাবতে হবে?
তুমি কি সেই মানুষটি নও, যে মানুষের সামনে নিজেকে যতটা ধার্মিক হিসেবে উপস্থাপন করে, নির্জনে নিজের রবের সামনে ততটা অনুতপ্ত হতে পারে না?
তাহলে বলো, এত অহংকার কিসের? এত বড়াই কিসের? কোন যোগ্যতায় তুমি অন্য মানুষকে তুচ্ছ মনে করো? কীভাবে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াও, তার সম্মান নষ্ট করো, অথচ নিজের ভুলগুলো সংশোধনের কথা ভুলে যাও?
হে প্রিয় বান্দা!
একবার নিজের দিকে তাকাও। তুমি যে আজও মানুষের সামনে সম্মান নিয়ে চলাফেরা করতে পারছ, তোমার সব দুর্বলতা যে সবার কাছে প্রকাশ হয়ে যায়নি, তোমার ভুলের পরও যে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছ—এগুলোর কথা কি কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখেছ?
তোমার রবের রহমত কত বিশাল! তুমি ভুল করো, আবার ফিরে আসার সুযোগ পাও। তুমি গুনাহে লিপ্ত হও, তারপরও তাওবার দরজা তোমার জন্য খোলা থাকে। তুমি যখন অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে আসো, তিনি তোমাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানান।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا
অর্থ: “হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন।” (সুরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩)
কী অসাধারণ এক আহ্বান! যে বান্দা নিজের গুনাহের কারণে হতাশ হয়ে পড়ে, তার জন্যও রয়েছে ফিরে আসার পথ। তবে এই আয়াত গুনাহে অবিচল থাকার অনুমতি নয়; বরং আন্তরিক তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আশা জাগায়।
তাই নিজের নেক আমল নিয়ে অহংকার কোরো না। অন্যের গুনাহ দেখে নিজেকে পবিত্র মনে কোরো না। কে আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়, তা তুমি জানো না। যে মানুষটিকে আজ তুমি অবহেলা করছ, আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে সে-ই হয়তো আল্লাহর কাছে তোমার চেয়ে উত্তম হয়ে উঠবে।
মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ানোর আগে নিজের অন্তরকে প্রশ্ন করো—আমি কি সত্যিই সংশোধিত হয়েছি? আমার ইবাদতে কি আন্তরিকতা আছে? নির্জনে আমি কি আমার রবকে ভয় করি? অন্যের সম্মান রক্ষা করতে কি আমি সচেতন?
মনে রেখো, নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং অন্যের ভুলের প্রতি অযথা কঠোর না হওয়া—দুটিই একজন মুমিনের সুন্দর বৈশিষ্ট্য। নিজের ভুলের জন্য তাওবা করো, অন্যের জন্য হেদায়েতের দোয়া করো এবং কারও দুর্বলতাকে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি বানিয়ো না।
হায়! আমরা যদি সত্যিই উপলব্ধি করতে পারতাম, আমাদের রব কত মহান, তাঁর রহমতের মুখাপেক্ষী আমরা কত অসহায়!
তাহলে হয়তো অন্যকে ছোট করার আগে নিজের ভুলগুলো মনে পড়ত। অহংকারের পরিবর্তে বিনয় আসত। গীবতের পরিবর্তে নীরবতা বেছে নিতাম। আর গুনাহের পর হতাশ না হয়ে চোখের পানিতে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতাম।
হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন, আমাদের অন্তরকে অহংকার ও আত্মপ্রশংসা থেকে পবিত্র করুন। আমাদের তাওবাকে আন্তরিক করুন এবং অন্যের দোষ খোঁজার পরিবর্তে নিজেদের সংশোধন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
দেশমাতৃ | দেশ, মানুষ ধর্ম ও কল্যাণের কথা
দেশ মাতৃ