মুসলমান হয়েও যেসব কারণে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
ইসলামে ঈমানের পাশাপাশি উত্তম চরিত্র, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিছু পাপ ও অন্যায় কাজ মানুষের পরকালীন জীবনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই একজন মুসলমানের উচিত এসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজের আমল সংশোধন করা।
নিচে এমন ১৭টি অন্যায় ও গুনাহের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো থেকে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক থাকা জরুরি।
১. প্রতিবেশীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী: প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া, তার অধিকার নষ্ট করা এবং তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা।
২. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান: পিতা-মাতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং শরিয়তসম্মত বিষয়ে তাঁদের অধিকার আদায়ে অবহেলা করা।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী: আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে অন্যায়ভাবে সম্পর্কচ্ছেদ করা এবং তাঁদের অধিকার উপেক্ষা করা।
৪. হারাম উপার্জন ও খাদ্যে লালিত ব্যক্তি: অবৈধ উপার্জন থেকে খাদ্য গ্রহণ করা এবং হারাম সম্পদের মাধ্যমে নিজের জীবন পরিচালনা করা।
৫. অশ্লীল ও কটু ভাষা ব্যবহারকারী: গালিগালাজ, অশ্লীল কথাবার্তা এবং মানুষের মনে আঘাত দেয় এমন ভাষা ব্যবহার করা।
৬. প্রজাদের সঙ্গে প্রতারণাকারী শাসক: দায়িত্বে থেকেও জনগণের অধিকার নষ্ট করা, তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবহেলা করা।
৭. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎকারী: প্রতারণা, জুলুম কিংবা অন্যায় উপায়ে মানুষের সম্পদ দখল করা।
৮. উপকার করে খোঁটা প্রদানকারী: কাউকে সাহায্য করার পর বারবার সেই উপকারের কথা স্মরণ করিয়ে তাকে অপমান করা।
৯. চোগলখোর ও পরনিন্দাকারী: মানুষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগানো এবং অন্যের সম্মানহানি করা।
১০. নিজের পিতৃপরিচয় অস্বীকারকারী: জেনেশুনে নিজের প্রকৃত পিতার পরিচয় অস্বীকার করে অন্য কাউকে পিতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া।
১১. অহংকার ও দাম্ভিকতায় লিপ্ত ব্যক্তি: নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।
১২. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশের প্রতি অবজ্ঞাকারী: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রমাণিত নির্দেশ ও সুন্নাহকে অবহেলা করা কিংবা নিজের ইচ্ছাকে তাঁর নির্দেশের ওপর স্থান দেওয়া।
১৩. অযৌক্তিক কারণে স্বামীর কাছে তালাকপ্রার্থী স্ত্রী: শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়াই বারবার স্বামীর কাছে তালাক দাবি করা। তবে নির্যাতন, অধিকারহানি বা গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ থাকলে বিষয়টি ভিন্ন।
১৪. দুনিয়াবি স্বার্থে জ্ঞান অর্জনকারী আলেম: আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে শুধু অর্থ, খ্যাতি কিংবা মানুষের প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা।
১৫. কালো কলপ ব্যবহারকারী: চুল বা দাড়ি কালো করার জন্য কলপ ব্যবহার করা। এ বিষয়ে হাদিসে বিশেষ সতর্কবাণী এসেছে; তবে সংশ্লিষ্ট বিধান ও ব্যতিক্রম সম্পর্কে আলেমদের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা জরুরি।
১৬. লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আমলকারী: আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা ও সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত বা নেক কাজ করা। একে রিয়া বলা হয়।
১৭. উত্তরাধিকারীকে তার প্রাপ্য সম্পদ থেকে বঞ্চিতকারী: শরিয়ত নির্ধারিত উত্তরাধিকারীর অধিকার অন্যায়ভাবে নষ্ট করা কিংবা সম্পত্তি বণ্টনে জুলুম করা।
শেষ কথা
উল্লিখিত কাজগুলোর অনেকগুলোই গুরুতর গুনাহ এবং মানুষের অধিকার নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত। তবে এসব কাজের কারণে প্রত্যেক ব্যক্তির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা নির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করার অধিকার আমাদের নেই। কারও পরকালীন পরিণতি আল্লাহর বিচার, রহমত ও ন্যায়বিচারের বিষয়।
তাই আসুন, আমরা নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করি, মানুষের অধিকার আদায় করি, হারাম থেকে বেঁচে থাকি এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করি।
দোয়া: হে আল্লাহ! আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন সব গুনাহ থেকে হেফাজত করুন, উত্তম চরিত্র দান করুন, মানুষের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দিন এবং আপনার রহমতে আমাদের জান্নাত নসিব করুন। আমিন।
দেশ মাতৃ