ফিতনা আসার আগেই নেক আমলে ধাবিত হোন: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
ফিতনা আসার আগেই নেক আমলে আত্মনিয়োগ করুন
পৃথিবীতে মানুষের জীবন সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো আসে স্বস্তি, কখনো সংকট; কখনো ঈমানের ওপর অটল থাকা সহজ হয়, আবার কখনো ফিতনা-ফাসাদের কারণে দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সুযোগ থাকতে নেক আমলে মনোযোগী হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অন্ধকার রাতের মতো ফিতনা আসার আগেই আমল করুন
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—
“অন্ধকার রাতের মতো ফিতনা আসার আগেই তোমরা নেক আমলের প্রতি ধাবিত হও। তখন সকালে একজন মুমিন থাকবে, অথচ সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে; কিংবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, অথচ সকালে কাফির হয়ে যাবে। সে দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে নিজের দ্বীন বিক্রি করে দেবে।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৮ (প্রচলিত নম্বরায়নের একটি); মূল হাদিসের নম্বর সংস্করণভেদে ভিন্ন হতে পারে।
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের সতর্ক করেছেন যে, এমন সময় আসতে পারে, যখন ফিতনার প্রভাবে মানুষের ঈমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুনিয়ার স্বার্থ, সম্পদ, মর্যাদা কিংবা প্রবৃত্তির অনুসরণে মানুষ নিজের দ্বীন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। তাই ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই নেক আমলে অভ্যস্ত হওয়া এবং ঈমানকে দৃঢ় করা জরুরি।
সাতটি বিষয় আসার আগেই নেক আমলে এগিয়ে যান
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, সাতটি বিষয়ের আগেই তোমরা নেক আমল করতে দ্রুত অগ্রসর হও। বিষয়গুলো হলো—
১. দারিদ্র্য: এমন দারিদ্র্য, যা মানুষকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দিতে পারে।
২. প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্য: এমন সম্পদশালী অবস্থা, যা মানুষকে অহংকারী ও উদ্ধত করে তোলে।
৩. কঠিন অসুস্থতা: এমন রোগ, যা মানুষকে দুর্বল ও জরাজীর্ণ করে দেয়।
৪. বার্ধক্য: এমন বার্ধক্য, যা মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৫. আকস্মিক মৃত্যু: যে মৃত্যু কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই এসে মানুষের দুনিয়ার জীবন শেষ করে দিতে পারে।
৬. দাজ্জালের আবির্ভাব: দাজ্জালের ফিতনা, যা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
৭. কিয়ামত: সেই মহাপ্রলয়, যা হবে অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও কঠিন।
— জামে আত-তিরমিযি, হাদিস: ২৩০৬; অধ্যায়: যুহদ।
এই বিষয়গুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নেক আমল করার সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য, সুস্থতা ও অসুস্থতা—জীবনের প্রতিটি অবস্থাই মানুষের জন্য পরীক্ষা। তাই সুযোগ থাকা অবস্থায় সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দান-সদকা, তাওবা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত।
ফিতনার সময় ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব
“ফিতনার সময় ইবাদত করা আমার দিকে হিজরত করার মতো।”
দেশ মাতৃ