শহীদ হয়েও জাহান্নামী! খাইবার যুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর শিক্ষা
খাইবারের যুদ্ধে সাহাবিদের মধ্য থেকে যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই শহীদ হিসেবে অভিহিত করছিলেন। কিন্তু যখন এক ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হলো যে তিনি শহীদ, তখন রাসূল (সাঃ) সাথে সাথে তাদের থামিয়ে দিলেন।
তিনি বললেন:
“কখনোই না। আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি, কারণ সে গনিমতের মাল থেকে একটি চাদর চুরি করেছিল।”
যুদ্ধের মতো পবিত্র ময়দানে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েও সেই ব্যক্তি জাহান্নামী হলেন! কেন? কেবল একটি চাদরের খেয়ানতের কারণে।
হাদিস থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা:
- শহীদের মর্যাদাও হারাম মাল নষ্ট করে দেয়: লোকটি দ্বীনের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তারপরও একটি চাদর চুরির কারণে তাকে জাহান্নামে যেতে হয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, নামাজ, রোজা, জিহাদ কিংবা শাহাদাতের মতো মহান আমলও মানুষের হক বা অধিকার নষ্ট করার গুনাহ মাফ করে দেয় না।
- ছোট চুরিও ছোট নয়: আমরা অনেক সময় মনে করি, একটা চাদর আর এমন কী! একটি কলম, সামান্য কিছু টাকা, অফিসের কাগজ বা সরকারি জিনিস—এগুলোকে আমরা ছোট মনে করি। কিন্তু আল্লাহর কাছে বান্দার হক বা প্রাপ্য ছোট-বড় বলে কিছু নেই। যেটা আপনার নয়, তা আত্মসাৎ করাই খেয়ানত, আর এই খেয়ানত মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়।
- মানুষের চোখে শহীদ, আল্লাহর চোখে জাহান্নামী: মানুষ সবসময় বাহ্যিক বিষয়গুলো দেখে। আমরা হয়তো কাউকে দেখে বলি, "লোকটা কত ভালো ছিল, নিয়মিত নামাজ পড়তো।" কিন্তু আল্লাহ বান্দার অন্তরের খবর ও ভেতরের খেয়ানত দেখেন। তাই মানুষ কী সার্টিফিকেট দিল, সেটা বড় কথা নয়; আল্লাহ কী দেখছেন সেটাই আসল।
- গনিমত ও সরকারি মাল আরও বেশি ভয়ঙ্কর: উক্ত চাদরটি ছিল সকলের হক তথা গনিমতের মাল। একা একা তা আত্মসাৎ করার অর্থ পুরো জাতির হক নষ্ট করা। আজকের যুগে সরকারি মাল, অফিসের সম্পদ, মসজিদ-মাদ্রাসার জিনিসপত্র বা কোম্পানির সম্পত্তি থেকে এক টাকা আত্মসাৎ করাও ঠিক তেমনি ভয়ঙ্কর। কারণ এগুলোর মালিক কোনো একজন ব্যক্তি নন, বরং অসংখ্য মানুষ। কিয়ামতের দিন এই কোটি কোটি মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা নিতে হবে।
- তাওবা না করে মারা গেলে মুক্তির উপায় নেই: লোকটি যদি জীবিতাবস্থায় তওবা করে সেই মাল ফেরত দিতো, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতেন। কিন্তু চুরি করা মাল নিজের কাছে রেখেই মৃত্যুবরণ করায়, শহীদ হওয়া সত্ত্বেও সে মুক্তি পায়নি।
আমাদের জন্য করণীয়:
- কারো টাকা বা জিনিস বিনা অনুমতিতে নেবেন না, এমনকি মজা করেও কারো হক নষ্ট করবেন না।
- অফিস, দোকান, প্রতিষ্ঠান কিংবা মসজিদের জিনিসপত্র নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- যদি কখনো অজান্তে বা ভুলবশত কারো হক নষ্ট করে ফেলেন, তবে জীবিত থাকতেই তা ফেরত দিন এবং ক্ষমা চেয়ে নিন। মৃত্যুর পর এই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না।
- কেবল বড় বড় আমল দিয়ে জান্নাত নিশ্চিত করা যাবে না, এর পাশাপাশি বান্দার হক বা অধিকারগুলোর ব্যাপারেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
রাসূল (সাঃ) এই হাদিসের মাধ্যমে আমাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে গেছেন—শহীদের রক্তও হারাম মালের দাগ মুছতে পারে না, যদি যথাযথ তওবা করা না হয়।
দেশ মাতৃ