সুন্দর কথা ও উত্তম আচরণ
ইসলামের দৃষ্টিতে কথোপকথনের ৮টি সোনালী নিয়ম
কথা বলা মানুষের একটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু এই কথা দিয়েই যেমন মানুষের মন জয় করা সম্ভব, তেমনি একটিমাত্র অনুচিত বাক্য ধ্বংস করে দিতে পারে সম্পর্কের সেতুবন্ধন। ইসলাম আমাদের জীবন পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে শিষ্টাচার শিখিয়েছে, যার মধ্যে কথা বলার আদব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুন্দর ও মার্জিত উপায়ে কথা বলার চমৎকার কিছু দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কথা বলার আগে সালাম দেওয়া
কারো সাথে দেখা হলে বা কথা শুরু করার আগে সালামের মাধ্যমে কথোপকথন শুরু করা সুন্নাত এবং শিষ্টাচারের অংশ। এটি পারস্পরিক ভালোবাসাও বৃদ্ধি করে।
"যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা স্বজনদেরকে সালাম জানাবে, যা আল্লাহর দৃষ্টিতে বরকতময় পবিত্র সম্ভাষণ।" (সূরা আন-নূর, আয়াত ৬১)
২. সচেতন থাকা, কারণ প্রতিটি শব্দই রেকর্ড হচ্ছে
আমরা মুখ থেকে যা-ই উচ্চারণ করি না কেন, তা অবহেলায় উড়ে যায় না। আমাদের প্রতিটি কথা সংরক্ষণের জন্য ফেরেশতারা নিয়োজিত আছেন। তাই কথা বলার সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত।
- "মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী (নজরদারিকারী) সদা প্রস্তুত রয়েছে।" (সূরা ক্বাফ, আয়াত ১৮)
৩. সুন্দর ও উত্তমভাবে কথা বলা
মানুষের সাথে নম্র ও সুন্দর ভাষায় কথা বলা মুমিনের অন্যতম ভূষণ। উগ্রতা বাদ দিয়ে মিষ্টি ও শালীন ভাষায় কথা বলা উচিত।
- "আর মানুষের সাথে সুন্দর ও উত্তম কথা বলো।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৮৩)
৪. অনর্থক ও বাজে কথা থেকে বিরত থাকা
অপ্রয়োজনীয়, অসার এবং আজেবাজে কথা মানুষের ব্যক্তিত্ব ও ইমানের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয়। একজন প্রকৃত মুমিন সর্বদা অর্থহীন কথা ও কাজ থেকে দূরে থাকেন।
- "এবং যারা অহেতুক ও অনর্থক বিষয়াদি থেকে বিরত থাকে।" (সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত ৩)
৫. কণ্ঠস্বর নিচু রাখা
কথার সময় কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অতিরিক্ত উচ্চস্বরে কথা না বলা ভদ্রতার লক্ষণ। চিল্লিয়ে কথা বলা কখনো ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক হতে পারে না।
- "এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো।" (সূরা লুকমান, আয়াত ১৯)
৬. বুদ্ধি ও চিন্তা ব্যবহার করে কথা বলা
না বুঝে বা হুট করে কোনো কথা বলে ফেলা বোকামি। কোনো কথা মুখ দিয়ে বের করার আগে তা চিন্তাভাবনা করে বলা বুদ্ধিমানের কাজ।
- "তোমার রবের পথে ডাকো প্রজ্ঞা ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো এমন পন্থায় যা অতীব সুন্দর..." (সূরা আন-নাহল, আয়াত ১২৫)
৭. কর্কশ স্বর পরিহার করা
গলার আওয়াজ এমন অমার্জিত বা কর্কশ করা উচিত নয় যা শুনতে বিরক্তিকর লাগে। ইসলামে কর্কশ স্বরে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।
- "আর তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, নিশ্চয়ই স্বরসমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রীতিকর হলো গাধার স্বর।" (সূরা লুকমান, আয়াত ১৯)
৮. অজ্ঞ ও মূর্খদের সাথে তর্কে না জড়িয়ে এড়িয়ে চলা
সব মানুষের মানসিকতা এক রকম হয় না। অনেক সময় অজ্ঞ বা তর্কে লিপ্ত হতে চায় এমন মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের সাথে অহেতুক তর্ক না করে শান্তভাবে এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
- "আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীর ওপর দিয়ে নম্রভাবে হেঁটে বেড়ায় এবং যখন অজ্ঞ মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে— ‘সালাম’ (শান্তি)।" (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৬৩)
দেশ মাতৃ