পাপের প্রভাব ও অন্তর পরিশোধনের উপায়: হাদিসের আলোকে
প্রতিটি কাজের একটি সুনির্দিষ্ট প্রভাব আমাদের মন ও আত্মায় পড়ে। রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিস শরিফে মানুষের অন্তরের এই পরিবর্তনকে চমৎকার একটি উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
যখন কোনো ব্যক্তি কোনো অন্যায় বা গুনাহে লিপ্ত হয়, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ বা ছাপ পড়ে। কিন্তু সে যদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই অন্যায় থেকে সরে আসে, আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা (তওবা ও এস্তেগফার) করে, তবে তার অন্তর আবারও দাগমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ক্ষমা না চেয়ে পরপর অন্যায় করে গেলে সেই কালো দাগ ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকে এবং একপর্যায়ে পুরো হৃদয় কালিমালিপ্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকেই পবিত্র কুরআনে 'রান' বা মরিচা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
"কখনোই নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে।"
— (সূরা আল-মুত্বাফফিফীন, আয়াত: ১৪)
(তথ্যসূত্র: জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ৩৩৩৪)
আমাদের শিক্ষণীয় দিক
- পাপের ক্ষতিকর দিক: ছোট হোক বা বড়, যেকোনো অপরাধ মানুষের অন্তরের আলোর জ্যোতি কমিয়ে দেয় এবং ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে।
- তওবার শক্তি: মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, তবে ভুলের পর বিলম্ব না করে তওবা করলে মন আবার নিষ্পাপ ও বিশুদ্ধ রূপ ফিরে পায়।
- সতর্কতা: অন্তরে জং পড়ে গেলে সত্য গ্রহণ করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়, তাই সার্বক্ষণিক এস্তেগফারের অভ্যাসে মনকে সজীব রাখা দরকার।
দেশ মাতৃ